বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৬ উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৬ উদ্বোধন করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

 

বর্তমানে দেশে ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। রূপকল্প ২১ অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে সরকার শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের উন্নয়ন হোক। দেশ এগিয়ে যাক। এজন্য আমরা লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা মানুষের ঘরে ঘরে আলো জ্বালাতে চাই। ‌

‘অদম্য বাংলাদেশ’ এ প্রাতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৬। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জন করতে হবে। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে তা আরও বাড়িয়ে ৬০ হাজার মেগাওয়াট করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্যিক জ্বালানির সরবরাহ ছিল ১৯.৯২ মিলিয়ন টনস অব অয়েল ইকুইভ্যালেন্ট (এমটিওই)। সেখানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৪ এমটিওই হয়েছে।

সরকার নানাবিধ স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৯৮৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৮টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

রূপপুর নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেখানে ২০২৪ সাল নাগাদ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। পরবর্তীকালে আরও ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারব, তেমনভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। এটি সফল হলে দক্ষিণাঞ্চলে আরও একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা বলেছিলাম, ২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। তখন কি আমরা আমাদের দেশ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে – এভাবে দেখব? নাকি আমাদের দেশ আত্মমর্যাদাশীল, আত্মনির্ভরশীল হয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে – এভাবে দেখব? অবশ্যই আপনারা চাইবেন আমরা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে অধিষ্ঠিত হই।

সেই লক্ষ্যেই প্রথম রূপকল্প ২০২১ এবং পরে ২০১৪’র নির্বাচনে রূপকল্প ২০৪১ নির্ধারণের কথা বলেন শেখ হাসিনা। এই রূপকল্প অনুসারে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ, এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচয় পাবে – এই উদ্দেশ্য নিয়েই সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।